লোন EMI ক্যালকুলেটর (Loan EMI Calculator Bangladesh)

ঋণ নেওয়ার আগে জেনে নিন প্রতি মাসে কত কিস্তি দিতে হবে আর মোট কত সুদ যাবে। ব্যাংকের ক্রমহ্রাসমান হার আর NGO বা লিজিং কোম্পানির ফ্ল্যাট রেট দুটোই হিসাব হয়, আর দেখা যায় ঋণটার আসল খরচ কত।

৳
%
বছর
%

ঋণের কত শতাংশ ফি কাটে, যেমন ১%

মাসিক কিস্তি (Monthly EMI)

৳ ১৬,৬০৭

৩৬ কিস্তি

মোট সুদ (Total interest)
৳ ৯৭,৮৫৮
মোট পরিশোধ (Total payment)
৳ ৫,৯৭,৮৫৮
আসল বার্ষিক খরচ (Effective rate)
১২%

ফ্ল্যাট রেটের ফাঁদ: ১২% আসলে ১২% না (Flat rate trap)

বাংলাদেশে অনেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, লিজিং কোম্পানি আর কিছু ঋণদাতা সুদের হার ফ্ল্যাট রেটে বলে। শুনতে কম লাগে, কিন্তু খরচ অনেক বেশি পড়ে। ১ লাখ টাকা, ১২%, ১২ মাসের একটা ঋণ দিয়ে তুলনা করলে:

ফ্ল্যাট রেট ১২%ক্রমহ্রাসমান হার ১২%
মাসিক কিস্তি৳ ৯,৩৩৩৳ ৮,৮৮৫
মোট সুদ৳ ১২,০০০৳ ৬,৬১৯
আসল বার্ষিক খরচ≈ ২১.৫%১২%

অর্থাৎ একই "১২%" ঋণে ফ্ল্যাট রেটে প্রায় দ্বিগুণ সুদ যায়। ক্যালকুলেটরে "ফ্ল্যাট রেট" বেছে নিলে আপনার অফারের আসল হার দেখা যাবে।

ঋণ নেওয়ার আগে ৫টা প্রশ্ন করুন (Checklist before taking a loan)

  1. সুদের হার ফ্ল্যাট নাকি ক্রমহ্রাসমান? লিখিতভাবে জেনে নিন।
  2. প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন চার্জ আর বীমার খরচ কত? এগুলো আসল খরচ বাড়ায়।
  3. আগাম শোধ করলে কত চার্জ? ব্যবসায় টাকা এলে আগে শোধ করার সুযোগ থাকা জরুরি।
  4. কিস্তি দেরি হলে জরিমানা কত? নগদ প্রবাহ অনিশ্চিত হলে এটা গুরুত্বপূর্ণ।
  5. সুদের হার কি পরিবর্তনশীল (variable)? বাজারভিত্তিক হারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার বাড়লে কিস্তিও বাড়তে পারে।

💡 নিয়ম হিসেবে, মাসিক সব কিস্তি মিলিয়ে ব্যবসার গড় মাসিক নগদ আয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি না রাখাই নিরাপদ, যাতে খারাপ মাসেও কিস্তি দিতে পারেন।

ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন (How to use)

  1. সুদের ধরন বেছে নিন: ব্যাংক ঋণ সাধারণত ক্রমহ্রাসমান হারে হয়। NGO, ক্ষুদ্রঋণ বা কিছু লিজিং কোম্পানি ফ্ল্যাট রেট বলে। ঋণপত্রে না লেখা থাকলে জিজ্ঞেস করুন।
  2. ঋণের পরিমাণ, বার্ষিক সুদ আর মেয়াদ দিন। মেয়াদ বছরে লিখুন, যেমন ১৮ মাস হলে ১.৫।
  3. প্রসেসিং ফি দিন, যাতে আসল খরচ কত তা দেখা যায়।
  4. দুটো অফার তুলনা করতে একটার সংখ্যা দিয়ে "আসল বার্ষিক খরচ" লিখে রাখুন, তারপর অন্যটা দিয়ে মেলান। যেটার আসল খরচ কম, সেটাই সস্তা।

মেয়াদ বাড়ালে কিস্তি কমে, কিন্তু খরচ বাড়ে

কম কিস্তি দেখে লম্বা মেয়াদ নেওয়ার আগে মোট সুদ দেখে নিন:

  • ৫ লাখ টাকা, ১২% সুদে ২ বছরে কিস্তি প্রায় ২৩,৫৩৭ টাকা, মোট সুদ প্রায় ৬৪,৮৮২ টাকা।
  • একই ঋণ ৩ বছরে নিলে কিস্তি প্রায় ১৬,৬০৭ টাকা, কিন্তু মোট সুদ বেড়ে প্রায় ৯৭,৮৫৮ টাকা।
  • ৫ বছরে কিস্তি প্রায় ১১,১২২ টাকা, আর মোট সুদ প্রায় ১,৬৭,৩৩৪ টাকা।

সাধারণ প্রশ্ন

EMI কীভাবে হিসাব করা হয়? (EMI formula)

ব্যাংকের ক্রমহ্রাসমান (reducing balance) ঋণে EMI = P × r × (1+r)ⁿ ÷ ((1+r)ⁿ − 1)। এখানে P ঋণের পরিমাণ, r মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০), আর n মোট কিস্তির সংখ্যা। যেমন ৫ লাখ টাকা, ১২% সুদ আর ৩ বছর (৩৬ কিস্তি) হলে মাসিক EMI প্রায় ১৬,৬০৭ টাকা।

ফ্ল্যাট রেট আর ক্রমহ্রাসমান হারের পার্থক্য কী? (Flat vs reducing rate)

ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদ জুড়ে মূল ঋণের পুরো অংকের উপর সুদ ধরা হয়, যদিও প্রতি মাসে আপনি কিছু আসল শোধ করছেন। ক্রমহ্রাসমান হারে সুদ ধরা হয় শুধু বাকি থাকা টাকার উপর। তাই ১২% ফ্ল্যাট রেট ১ বছরের ঋণে আসলে প্রায় ২১.৫% ক্রমহ্রাসমান হারের সমান। ঋণ নেওয়ার আগে সবসময় জিজ্ঞেস করুন হারটা ফ্ল্যাট নাকি ক্রমহ্রাসমান।

আসল বার্ষিক খরচ (Effective rate) কী?

এটা হলো ঋণের প্রকৃত খরচ, যেখানে সুদের ধরন (ফ্ল্যাট বা ক্রমহ্রাসমান) আর প্রসেসিং ফি দুটোই হিসাবে ধরা হয়। প্রসেসিং ফি ঋণের শুরুতেই কেটে নেওয়া হয়, তাই হাতে কম টাকা পেলেও কিস্তি দিতে হয় পুরো টাকার উপর। দুটো ঋণের অফার তুলনা করতে এই হারটাই দেখুন।

আগাম ঋণ শোধ (early settlement) করলে লাভ হয়?

ক্রমহ্রাসমান হারের ঋণে আগে শোধ করলে বাকি মেয়াদের সুদ বেঁচে যায়, কারণ সুদ শুধু বাকি টাকার উপর ধরা হয়। তবে অনেক ব্যাংক আগাম শোধে চার্জ নেয়। ক্যালকুলেটরের কিস্তির তালিকা থেকে দেখুন কোন মাসে কত টাকা বাকি থাকবে, তারপর ব্যাংকের চার্জের সাথে তুলনা করুন।

SME ঋণের জন্য কী কী কাগজ লাগে?

সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, TIN সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, গত ৬ থেকে ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব আর জামানতের কাগজ (প্রযোজ্য হলে) লাগে। প্রতিটি ব্যাংকের তালিকা আলাদা, তাই আবেদনের আগে ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

তথ্যসূত্র

আরও কিছু ফ্রি টুল (Related tools)

এ বিষয়ে বিস্তারিত গাইড (Guides)