আয়কর ক্যালকুলেটর ২০২৬-২৭

Finance Act 2026-এর নতুন করমুক্ত সীমা (৳৪ লাখ) আর নতুন স্ল্যাব অনুযায়ী আপনার বেতন ও অন্যান্য আয়ের উপর কত আয়কর দিতে হবে, এক মিনিটে বের করুন। কোনো রেজিস্ট্রেশন লাগবে না, সম্পূর্ণ ফ্রি।

করদাতার অবস্থা

৳

বেসিক, বোনাস, ভাতা সব মিলিয়ে (১২ মাসের)

৳

ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং, বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি (খরচ বাদে)

৳

সঞ্চয়পত্র, DPS, জীবন বীমা, শেয়ার ইত্যাদি

৳

বেতন থেকে কাটা বা অগ্রিম কর

আপনার মোট আয়কর

৳ ০

হিসাবের বিস্তারিত

করযোগ্য আয়
৳ ০
করমুক্ত সীমা
৳ ৪,০০,০০০
মোট কর (রিবেটের আগে)
৳ ০
বিনিয়োগ রিবেট
− ৳ ০

* হিসাবটি অর্থ আইন ২০২৬ ও NBR-এর আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ অনুযায়ী তৈরি। এটি সাধারণ তথ্যের জন্য; জটিল আয় (মূলধনী লাভ, সারচার্জ, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়) থাকলে একজন আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

আয়কর স্ল্যাব (করবর্ষ ২০২৬-২৭ (চলতি বছর))

আয়ের স্তর (সাধারণ করদাতা)করের হার
প্রথম ৳৪,০০,০০০০%
পরবর্তী ৳৩,০০,০০০১০%
পরবর্তী ৳৪,০০,০০০১৫%
পরবর্তী ৳৫,০০,০০০২০%
পরবর্তী ৳২০,০০,০০০২৫%
বাকি সব আয়৩০%

কীভাবে হিসাব করা হয়

  1. মোট বেতন থেকে করমুক্ত অংশ (১/৩ অথবা ৳৫ লাখ, যেটি কম) বাদ দেওয়া হয়।
  2. এর সাথে ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং বা ভাড়ার আয় যোগ করে করযোগ্য আয় বের করা হয়।
  3. করমুক্ত সীমার পরের আয়ে ধাপে ধাপে স্ল্যাবের হারে কর বসে।
  4. বিনিয়োগ রিবেট বাদ দেওয়া হয়, তবে কর ন্যূনতম করের নিচে নামবে না।
  5. বেতন থেকে আগেই কাটা কর (TDS) বাদ দিলে বাকি দেয় কর পাওয়া যায়।

কখন রিটার্ন দিলে কত ছাড় বা অতিরিক্ত কর (Return filing timeline)

অর্থ আইন ২০২৬ আয়কর আইনের ধারা ১৭০ বদলে দিয়েছে। এখন রিটার্ন দেওয়ার সময়ের উপর সরাসরি করের পরিমাণ নির্ভর করে (NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২৭, পৃষ্ঠা ৭৮):

রিটার্ন জমার সময়ফলাফল
১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর✅ পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা ২৫,০০০ টাকা, যেটি কম, তত ছাড় (প্রণোদনা)
১ অক্টোবর – ৩১ ডিসেম্বরকোনো ছাড় নেই, কোনো অতিরিক্ত করও নেই
১ জানুয়ারি – ৩১ মার্চ⚠️ করের ২% অথবা ৩,০০০ টাকা, যেটি বেশি, তত অতিরিক্ত কর
১ এপ্রিল – ৩০ জুন⚠️ করের ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি, তত অতিরিক্ত কর

যারা জীবনে প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন, তারা আয়বর্ষ শেষের পরের ৩০ জুনের মধ্যে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড়াই রিটার্ন দিতে পারেন। পড়াশোনা, চাকরি বা চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা করদাতারা দেশে ফেরার ৯০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারেন।

💡 উদাহরণ: আপনার পরিশোধযোগ্য কর ৪০,০০০ টাকা হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিলে ২,০০০ টাকা কম দিতে হবে। আর এপ্রিলে দিলে ৫,০০০ টাকা বেশি লাগবে। দুইয়ের পার্থক্য ৭,০০০ টাকা।

NBR-এর উদাহরণ দিয়ে যাচাই (Verified with NBR's own example)

NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২৭-এর উদাহরণ ২৯-এ একজন করদাতার মোট আয় ৯,০০,০০০ টাকা, আর হিসাব করা আয়কর ৬০,০০০ টাকা। উৎসে আগেই ১৫,০০০ টাকা কাটা হয়েছে, তাই রিটার্নের সাথে দিতে হবে ৪৫,০০০ টাকা।

এই ক্যালকুলেটরে "অন্যান্য আয়" ঘরে ৯,০০,০০০ আর "ইতিমধ্যে কাটা কর" ঘরে ১৫,০০০ লিখলে হুবহু একই ফল আসে: মোট কর ৬০,০০০, আরও দিতে হবে ৪৫,০০০ টাকা।

বিভিন্ন আয়ে কত আয়কর (Income tax table, general taxpayer)

নিচের হিসাব সাধারণ করদাতার করযোগ্য আয়ের উপর, রিবেট বা উৎসে কাটা কর বাদ দেওয়ার আগে। বেতনভোগী হলে মোট বেতন থেকে আগে এক-তৃতীয়াংশ (সর্বোচ্চ ৫ লাখ) বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের করুন।

করযোগ্য আয় (বছরে)কর ২০২৬-২৭কর ২০২৫-২৬
৫,০০,০০০১০,০০০১০,০০০
৬,০০,০০০২০,০০০২০,০০০
৮,০০,০০০৪৫,০০০৪০,০০০
৯,০০,০০০৬০,০০০৫২,৫০০
১০,০০,০০০৭৫,০০০৬৭,৫০০
১৫,০০,০০০১,৭০,০০০১,৫০,০০০
২০,০০,০০০২,৯০,০০০২,৫৭,৫০০
৩০,০০,০০০৫,৪০,০০০৫,০৭,৫০০

দেখা যাচ্ছে করমুক্ত সীমা বাড়লেও ৫% স্তর উঠে যাওয়ায় প্রায় ৭ লাখের বেশি করযোগ্য আয়ে এ বছর কর কিছুটা বেড়েছে।

রিটার্নের আগে যে কাগজগুলো গুছিয়ে রাখবেন (Documents checklist)

  • TIN সার্টিফিকেট আর জাতীয় পরিচয়পত্র
  • বেতনের সনদ (salary certificate), যাতে বছরের মোট বেতন আর কাটা কর লেখা থাকে
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর সুদের উপর কাটা করের সনদ
  • বিনিয়োগের প্রমাণ: সঞ্চয়পত্র, DPS, জীবন বীমার প্রিমিয়ামের রসিদ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের স্টেটমেন্ট
  • ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিং আয়ের হিসাব: আয়-ব্যয়ের খাতা, ইনভয়েস, রেমিট্যান্সের সনদ
  • বাড়ি ভাড়ার আয় থাকলে ভাড়ার চুক্তি আর পৌরকরের রসিদ
  • সম্পদ ও দায়ের তথ্য: জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স, ঋণ

বেশিরভাগ ব্যক্তি করদাতা NBR-এর অনলাইন সিস্টেম etaxnbr.gov.bd-এ ঘরে বসেই ই-রিটার্ন জমা দিতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন

করবর্ষ ২০২৬-২৭-এ করমুক্ত আয়ের সীমা কত?

Finance Act 2026 অনুযায়ী জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ সময়ের আয়ের জন্য সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৳৪,০০,০০০। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ৳৪,৫০,০০০, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ৳৫,২৫,০০০, আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের ৳৫,৫০,০০০। প্রতিবন্ধী সন্তানের মা-বাবা বা অভিভাবক প্রতি সন্তানের জন্য আরও ৳৫০,০০০ পান।

নতুন আয়কর স্ল্যাবে কী পরিবর্তন হয়েছে?

আগের ৫% স্তর বাতিল হয়েছে। করমুক্ত সীমার পরের প্রথম ৳৩,০০,০০০-এ ১০%, পরবর্তী ৳৪,০০,০০০-এ ১৫%, পরবর্তী ৳৫,০০,০০০-এ ২০%, পরবর্তী ৳২০,০০,০০০-এ ২৫%, আর বাকি আয়ে ৩০% কর বসে।

বেতনের কতটুকু অংশ করমুক্ত?

চাকরি থেকে পাওয়া আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৳৫,০০,০০০, যেটি কম, সেটুকু করমুক্ত। ক্যালকুলেটর এটা নিজেই বাদ দেয়।

বিনিয়োগ রিবেট কীভাবে হিসাব হয়?

আয়কর আইনের ধারা ৭৮ অনুযায়ী রিবেট হলো তিনটির মধ্যে সবচেয়ে কম: করযোগ্য আয়ের ৩%, রিবেটযোগ্য বিনিয়োগের ১০%, অথবা ৳৭,৫০,০০০। আগের বছর বিনিয়োগের ১৫% ধরা হতো, এবার তা কমে ১০% হয়েছে।

ন্যূনতম কর কত?

আয় করমুক্ত সীমার বেশি হলে দেশের যেকোনো জায়গায় কমপক্ষে ৳৫,০০০ কর দিতে হবে। প্রথমবার রিটার্ন দেওয়া করদাতার জন্য ন্যূনতম কর ৳১,০০০। আগের মতো এলাকাভিত্তিক আলাদা ন্যূনতম কর আর নেই।

রিটার্ন জমার শেষ তারিখ কবে?

অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতার জন্য ৩০ নভেম্বরের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ আর নেই। আয়বর্ষ শেষের পরের পুরো করবর্ষ (১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭) জুড়ে রিটার্ন দেওয়া যায়, তবে কখন দিচ্ছেন তার উপর কর বাড়ে বা কমে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম) ছাড়। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে কোনো ছাড় বা অতিরিক্ত কর নেই। জানুয়ারি থেকে মার্চে করের ২% অথবা ৩,০০০ টাকা, আর এপ্রিল থেকে জুনে করের ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত কর দিতে হয়।

তথ্যসূত্র

এ বিষয়ে বিস্তারিত গাইড (Guides)